সিনেটের শুনানিতে টিকার বিষয়ে ট্রাম্পের মনোনীত এফডিএ প্রধানকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ
ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (সময়ধারা নিউজ/বাসস) : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)-এর প্রধান হেইডি ওভারটন বৃহস্পতিবার টিকার পক্ষে সতর্কভাবে সমর্থন জানিয়েছেন। এদিন সিনেটে তার নিয়োগ অনুমোদনের শুনানিতে স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
হোয়াইট হাউসের বর্তমান উপদেষ্টা ওভারটনকে ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকে নেওয়া স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়। ট্রাম্প নিজে টিকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে আসছেন।
গত মাসে ওভারটনকে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে দেখা যায়, ট্রাম্প এমন একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন যাতে হাম, মাম্পস ও রুবেলা প্রতিরোধী সম্মিলিত এমএমআর টিকাকে তিনটি আলাদা টিকায় ভাগ করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়। ওই সময় ট্রাম্প ভিত্তিহীনভাবে দাবি করেছিলেন, বহুল ব্যবহৃত এই সম্মিলিত টিকা প্রাণঘাতী হতে পারে।
বৃহস্পতিবার সিনেটের শুনানিতে ওই মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে ওভারটন বলেন, ‘এমএমআর টিকা বর্তমানে এফডিএর অনুমোদিত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত।’
তিনি বলেন, ‘এটি নিরাপদ ও কার্যকর। বর্তমানে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এটিই আমাদের সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার।’
যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হাম প্রাদুর্ভাবের মুখোমুখি হয়েছে। চলতি বছর পেনসিলভানিয়ায় টিকা দিয়ে প্রতিরোধযোগ্য এই রোগে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশটিতে টিকা নেওয়ার হারও কমছে।
ওভারটনের সিনেট অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন রিপাবলিকান সিনেটর ও চিকিৎসক বিল ক্যাসিডি। তিনি ওভারটনকে প্রশ্ন করেন, ‘এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এমন কোনো টিকা আছে কি, যেটি অনিরাপদ?’
জবাবে ওভারটন বলেন, ‘এফডিএর তথ্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে থাকা প্রতিটি টিকাই নিরাপদ ও কার্যকর।’
তার এই বক্তব্য ট্রাম্প এবং দেশটির স্বাস্থ্য ও মানবসেবা মন্ত্রী রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রের অবস্থান থেকে কিছুটা ভিন্ন বলে মনে হয়েছে। কেনেডি দীর্ঘদিন ধরে টিকা নিয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রতত্ত্ব প্রচার করে আসছেন।
তবে ওভারটন সরাসরি বলতে অস্বীকৃতি জানান যে টিকা নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য ভুল ছিল কি না। একইভাবে, কোনো প্রেসিডেন্টের নির্দেশ জনস্বাস্থ্যের স্বার্থের পরিপন্থী হলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করবেন কি না—এমন প্রতিশ্রুতিও দেননি।
ওভারটন বলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার ‘গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্তারিত আলোচনা’ হয়েছে। তিনি ট্রাম্পকে তার ‘সর্বোত্তম পরামর্শ’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
সিনেটররা ওভারটনের গর্ভপাতের ওষুধ নিয়েও প্রশ্ন করেন। এর আগে তিনি এই ওষুধকে ‘নারীদের জন্য বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, কারণ এফডিএ এ বিষয়টিও নিয়ন্ত্রণ করে।
৩৭ বছর বয়সী ওভারটনের নিয়োগ সিনেটে অনুমোদিত হলে তিনি এফডিএর ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী প্রশাসক হবেন।
ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এফডিএ নানা অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সংস্থাটিতে ব্যাপকসংখ্যক কর্মী ছাঁটাই হয়েছে, বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে এবং কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা পদ ছেড়েছেন।






