সাতক্ষীরার গাজী নজরুল এখন কোন দলের এমপি

সাতক্ষীরার গাজী নজরুল  এখন কোন দলের এমপি
ছবি : সংগৃহীত

সাতক্ষীরা,(১৭সেপ্টেম্বর,২০২৬ খ্রি,(সময়ধারা নিউজ):সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁর এমপি পদ বহাল আছে। এর ফলে প্রশ্ন উঠেছে, গাজী নজরুল এখন কোন দলের এমপি, নাকি তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে সংসদে আছেন?

গাজী নজরুল ইসলাম অবশ্য নিজেকে এখনো জামায়াতের এমপি মনে করেন। গত ১৮ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ১০ সদস্যের ওই কমিটির সদস্য তিনি। 

 সরকারি প্রতিশ্রুতি কমিটিতে গাজী নজরুলকে রাখার বিষয় নিয়েও সংসদে বিতর্ক হয়। বিরোধী দলের আপত্তির পর শেষ পর্যন্ত ওই কমিটি থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়।

এসব ঘটনায় সংসদে তাঁর দলীয় পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন সামনে আসে। কিন্তু সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর আসন এখনো বহাল রয়েছে।
গাজী নজরুলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো সংবিধানে সংসদ সদস্য পদে অযোগ্যতার ক্ষেত্রে নৈতিক স্খলনের সঙ্গে ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কমপক্ষে দুই বছরের কারাদণ্ডের কথা বলা হয়েছে। শুধু কোনো রাজনৈতিক দল ‘নৈতিক স্খলনের’ অভিযোগে একজন সংসদ সদস্যকে বহিষ্কার করলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে—এমন বিধান সংবিধানে নেই।

বর্তমানে গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ থাকা না–থাকার বিষয়টি স্পিকার ও ইসির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তবে জামায়াতের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
৭৫ বছর বয়সী গাজী নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরা–৪ আসন থেকে তৃতীয়বারের মতো এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। সম্প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁকে দেখা যায়। এরপর গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে ‘নৈতিক স্খলন’–এর প্রমাণ পাওয়া গেছে জানিয়ে গত ২২ জুলাই জামায়াত তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে।

এরপর জামায়াতের পক্ষ থেকে গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্পিকার, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাঁর সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না, সে প্রশ্নের নিষ্পত্তি এখনো স্পিকার ও ইসির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।
সূত্রঃ প্রথম আলো