বলিউড তারকাদের ঝলমলে চুলের রহস্য: আলিয়া ভাটের হেয়ারস্টাইলিস্টের ৬টি বিশেষ পরামর্শ
সুন্দর ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুলের জন্য কেবল দামি শ্যাম্পু বা প্রসাধনীই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সঠিক যত্ন এবং দৈনন্দিন অভ্যাসের কিছু পরিবর্তন। আলিয়া ভাট, ক্যাটরিনা কাইফ, শিল্পা শেঠি এবং নীতা আম্বানির মতো সেলিব্রিটিদের চুলের সাজ যাঁর হাতে পূর্ণতা পায়, সেই প্রখ্যাত হেয়ারস্টাইলিস্ট অমিত ঠাকুর সাধারণ মানুষের জন্য দিয়েছেন সহজ ও কার্যকরী কিছু পরামর্শ।
তাঁর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে সুন্দর চুল ধরে রাখতে নিচের ৬টি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম মেনে চলার কথা বলেছেন তিনি:
ভেজা চুলে কখনোই ঘুমাবেন না:
গোসলের পর চুল পুরোপুরি না শুকিয়ে ঘুমাতে যাওয়া চুলের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দীর্ঘক্ষণ মাথার ত্বক স্যাঁতসেঁতে থাকলে ছত্রাক ও জীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে, যা থেকে খুশকি ও চুলকানির মতো অস্বস্তিকর সমস্যা দেখা দেয়।
সিল্কের বালিশের কভার ব্যবহার করুন:
সাধারণ সুতির বালিশে ঘর্ষণের কারণে চুল রুক্ষ হয়ে যায় এবং জট বাঁধে। এর বদলে সিল্কের বালিশের কভার ব্যবহার করলে চুলের ঘর্ষণ অনেক কমে যায়, ফলে চুল থাকে মসৃণ ও ফ্রিজ-মুক্ত।
প্রয়োজনে ডাবল শ্যাম্পু করুন:
চুলে তেল, অতিরিক্ত ধুলাবালি বা স্টাইলিং প্রোডাক্ট থাকলে একবার শ্যাম্পু করলে তা পুরোপুরি পরিষ্কার হয় না। এসব ক্ষেত্রে দুবার শ্যাম্পু করলে স্কাল্প বা মাথার ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার হয়। তবে প্রতিদিন দুবার শ্যাম্পু করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
ভেজা অবস্থায় চিরুনি নয়:
চুল যখন ভেজা থাকে, তখন তা সবচেয়ে বেশি দুর্বল ও ভঙ্গুর অবস্থায় থাকে। তাই ভেজা চুল আঁচড়ালে সহজেই তা ছিঁড়ে বা ভেঙে যেতে পারে। চুল কিছুটা শুকিয়ে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে চিরুনি ব্যবহার করা উচিত।
নিয়মিত চাম্পি বা হেড ম্যাসাজ:
সঠিক নিয়মে হালকা হাতে মাথার ত্বকে ম্যাসাজ বা চাম্পি করলে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়। এটি কেবল চুলের পুষ্টিই নিশ্চিত করে না, বরং মানসিক চাপ কমাতেও দারুণ কার্যকরী। তবে খুব বেশি জোরে ঘষে ম্যাসাজ করা যাবে না।
নিয়ম করে চুল ট্রিম করা:
চুল কাটলেই যে দ্রুত লম্বা হবে—এমন প্রচলিত ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। তবে নিয়মিত চুলের আগা ছাঁটলে স্প্লিট এন্ডস বা আগা ফাটা রোধ হয়। এর ফলে চুল দেখতে অনেক বেশি সতেজ, সজীব ও স্বাস্থ্যকর লাগে।
বিশেষজ্ঞের মূলমন্ত্র
অমিত ঠাকুরের মতে, চুলের যত্নে জাদুকরী কোনো শর্টকাট নেই। দামি প্রসাধনীর পেছনে না ছুটে, নিজের চুলের ধরন বুঝতে হবে। দৈনন্দিন জীবনে ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাই পারে আপনার চুলের স্থায়ী সৌন্দর্য ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে।






